সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক: বুঝবেন কীভাবে?
ভাবুন তো, আপনার বুকে তেমন ব্যথা নেই। শুধু একটু ক্লান্তি, হালকা শ্বাসকষ্ট, হয়তো গ্যাসের মতো অস্বস্তি। আপনি ভাবলেন, "কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে।" কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরে রিপোর্টে ধরা পড়ল—আপনার হার্ট অ্যাটাক ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক। অনেক সময় হার্ট বিপদের সংকেত দেয়, কিন্তু সেই সংকেত এতটাই নীরব হয় যে বেশিরভাগ মানুষ তা বুঝতেই পারেন না। ফলে চিকিৎসার 'গোল্ডেন টাইম' হাতছাড়া হয়ে যায়।
কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করবেন না?
অস্বাভাবিক ক্লান্তি: কোনো কারণ ছাড়াই দিনের পর দিন অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগা।
হালকা বুকের অস্বস্তি: তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে, তবে চাপ, ভারী লাগা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট: সামান্য হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার সময়ও দম ফুরিয়ে যাওয়া।
ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা হাতে ব্যথা: বিশেষ করে বাম হাতে বা চোয়ালে অস্বস্তি অনুভব হওয়া।
অতিরিক্ত ঘাম বা বমিভাব: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ঘাম হওয়া বা বমি বমি ভাব।
এই লক্ষণগুলোকে অনেকেই গ্যাস, অ্যাসিডিটি, স্ট্রেস বা ঘুমের অভাব বলে উড়িয়ে দেন। আর সেখানেই লুকিয়ে থাকে বড় বিপদ। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় হৃদপেশির ক্ষতি বাড়তে থাকে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
ডায়াবেটিস রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, ধূমপায়ী, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ এবং যাদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের মধ্যে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে অনেক সময় ব্যথা কম অনুভূত হয়। তাই হার্ট অ্যাটাক হলেও রোগী বুঝতে পারেন না।
আর সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক মানে বিপদ কেটে গেছে—এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। একটি সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক ভবিষ্যতে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর বা হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শরীরের ছোটখাটো অস্বাভাবিক সংকেতকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।





